মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রধান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের সমন্বিত বেঞ্চ এই বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় দেবেন। বিচারিক প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন আন্দোলনকে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া, সহিংস কার্যকলাপে প্ররোচনা জোগানো, আর্থিক রসদ সরবরাহ এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে এই ব্যক্তিরা সরাসরি লিপ্ত ছিলেন। আদালতের শুনানিতে এসব দায় স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ার দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা অভিযুক্তদের চরম এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আর্জি জানিয়েছেন।
সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এই মামলার বাকি অভিযুক্তরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের শীর্ষ নেতা শেখ ফজলে শামস পরশ, একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনো অভিযুক্তই এখনো পর্যন্ত আটক না হওয়ায় তাদের আইনত পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করেই পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনি বিধান অনুযায়ী অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয়ে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম এবং ইশরাত জাহান অমি। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে প্রসিকিউশন টিমের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন কৌঁসুলি মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম।