দেশে যেকোনো ধরনের আইনবহির্ভূত গণউত্তেজনা বা মব কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ওপর ভিত্তি করেই সবকিছু পরিচালিত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে গণউপদ্রবের মতো ঘটনার উপস্থিতি চোখে পড়ে না। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের শেষ সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকার এ জাতীয় অনিয়ম একেবারেই বরদাশত করবে না বলে তিনি নিশ্চয়তা দেন।
একই আয়োজনে মব কালচারের বর্তমান চিত্র নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় এ জাতীয় প্রবণতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক মদদ না থাকা এবং সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে হেনস্তা না করার নীতি বজায় থাকায় মব কালচার স্বাভাবিকভাবেই কমে আসছে এবং সুশাসন বজায় থাকলে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রগতি ও সাফল্যের নানা চিত্র উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। সভায় সরকারের নীতি ও অর্জন তুলে ধরে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাব দেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।