নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নির্ধারিত সময় শেষ হলেও এখনও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে পারেনি কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়। কমিটিকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেও প্রতিবেদন না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ তদন্ত কার্যক্রমে প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগও তুলেছেন।
সময়মতো প্রতিবেদন দিতে না পারার কারণ জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ ও নির্ভুল একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। অনলাইন মিডিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। এগুলোর ফাইলের আকার অনেক বড় হওয়ায় তা বিশ্লেষণ করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে সংঘর্ষের সময় বহিরাগত কারা উপস্থিত ছিল, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য এসব ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব, আহত শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছি। কমিটির সদস্যদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সবার সঙ্গে কথা বলতেও কিছুটা সময় লাগছে।”
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জানান, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতেই সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আরও তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।”
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।