জাতীয়
ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়ার অভিযোগ নারী এমপির
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সার্বিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অনিয়ম নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সার্বিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অনিয়ম নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ দাবি করেন, সরকার ই-নামজারি ও অনলাইন ব্যবস্থায় ভূখণ্ডের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করার পরও মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঘুষ লেনদেন বন্ধ করা যায়নি। অর্থ লেনদেন ব্যতিরেকে এখনো কোনো ফাইলের অগ্রগতি হয় না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে অনিয়মে যুক্ত তহশিলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাল নথির মাধ্যমে সরকারি খাসজমিসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ভূসম্পত্তি দখলের সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের উত্তরে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী ও উপসহকারী কর্মকর্তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। যেকোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থাপনা চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো নাগরিক এখন ঘরে বসেই নিজেদের দাবি দাখিল করতে পারছেন এবং প্রতিটি আবেদনের অগ্রগতি বার্তা আকারে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খাসজমি উদ্ধারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা একটি নিরবচ্ছিন্ন আইনি কার্যক্রম।
একই অধিবেশনে কৃষি খাত ও বৈশ্বিক পরিবেশ সংক্রান্ত পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীগণ। সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের এক প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, দেশে কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও জৈব সারের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। কৃষকদের নিকট সময়মতো, নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সতর্ক করে জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বিপজ্জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু সংস্থার নিকট গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা সংবলিত পরিকল্পনা নথি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।