দলীয় সূত্রমতে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রীয় দপ্তরে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক চেইনে গতি আনতে বিভিন্ন ধাপে পদায়ন ও দায়িত্বের ব্যাপক পরিবর্তন আনার রূপরেখা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংগঠনিক অবকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই অনুষ্ঠিত হবে দলের বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল। একই সাথে বিগত সময়ের নানা প্রেক্ষাপটে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের অব্যাহতি আবেদনের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে দলে ফেরানোর ইতিবাচক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হচ্ছে।
আগামী বছরের প্রথম ভাগে তথা ফেব্রুয়ারি বা মার্চে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রেখে তৃণমূলে গতি ফেরাতে তৎপর রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। তার অংশ হিসেবে বিগত দুই মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর শাখাগুলোর পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ, পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন, পদবঞ্চিত ও বহিষ্কৃতদের পুনর্বাসন এবং দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নেওয়া হচ্ছে।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস জুড়ে দল পুনর্গঠনের এই সার্বিক কার্যক্রম পুরোদমে বজায় থাকবে। মূলত সরকার থেকে দলকে আলাদা ও স্বাতন্ত্র্য রেখে তৈরি করতে দুটি নির্দিষ্ট কৌশল অগ্রাধিকার পাচ্ছে—প্রথমত, ক্লিন ইমেজ ও উদীয়মান তরুণ নেতৃত্বকে সামনের সারিতে আনা এবং দ্বিতীয়ত, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সুনিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জেলা, উপজেলা কিংবা মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ পদে না রাখার নীতিগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সংগঠনের চালিকাশক্তি ও সরকারের মাঝে কাজের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমলের সাংগঠনিক নীতি অনুসরণের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই সময়ে দলীয় পদ এবং সরকারের দায়িত্বকে আলাদা রাখা হতো, যার ফলে অনেক প্রতিনিধি স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে সরকারি দায়িত্ব পালনে মন দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিগত আন্দোলনে নেতাকর্মীদের অবদান ও ভূমিকাকে মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড করা হয়েছে। একই সাথে মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাদের ক্ষেত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি প্রয়োগে জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাধারার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি মনে করেন, একটি নির্দিষ্ট দায়িত্বে মনোনিবেশ করলে দল পরিচালনা ও প্রশাসনিক কর্মদক্ষতা—উভয় ক্ষেত্রই বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
ইতোমধ্যেই বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯ সদস্যের এই কমিটিতে এখনও তিনটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া ১২টি ভাইস চেয়ারম্যান পদে অভিজ্ঞ প্রবীণ ও উদীয়মান মধ্যম সারির নেতাদের মধ্য থেকে পদায়নের কাজ চলমান।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব নতুন করে সাজানোর কাজ শেষ পর্যায়ে, যেখানে চলতি মাস বা পরবর্তী মাসের শুরুতেই ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব দৃশ্যমান হতে পারে।
দলের স্থায়ী কমিটি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, সারা দেশের জরুরি ও স্থবির শাখাগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কাউন্সিল আয়োজনের পূর্বেই শেষ করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ের এসব ইউনিট গোছানোর কাজ সম্পন্ন হলেই জাতীয় কাউন্সিলের চূড়ান্ত কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।