শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

নেপালে বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন ও নীরবতা পালন করা হয়েছে।

নেপালে বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন ও নীরবতা পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম সংলগ্ন এলাকা আমতলায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর বা ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। পরবর্তীতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন উপস্থিত সকলে।

উক্ত আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। চরম সংকটে থাকা দুর্গতদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে সবাইকে মানবিক ও আর্থিক অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

ভেটেরিনারি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই জানান, নিজ দেশের এমন করুণ পরিস্থিতিতে শোক প্রকাশই যথেষ্ট নয়, বেঁচে থাকা মানুষের জীবনধারণের জন্য এখন জরুরি প্রয়োজন আর্থিক ও সামগ্রিক সহযোগিতা।

আরেক শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ বলেন, দূরদেশে অবস্থান করলেও নিজ দেশের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সাথে বাকৃবির প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রেরণের অনুরোধ জানান।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বাকৃবি পরিবারের পক্ষ থেকে নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষ এই কঠিন সময়ে সম্ভাব্য সব ধরনের ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার আশ্বাস দেন যে, ক্যাম্পাসে থাকা কোনো নেপালি শিক্ষার্থীর পরিবার এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।