মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তেল আবিবের স্বার্থ হাসিল করতে ওয়াশিংটন সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরএনএ-এর বরাতে জানা যায়, সামরিক আগ্রাসন কিংবা অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতা—কোনো পথেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন আবারও পুরোনো পথেই হাঁটছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, প্রায় চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়েও কোনো সমাধান না পেয়ে ওয়াশিংটন আবারও নতুন করে একই চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এমন হঠকারী নীতির ফলে বিশ্বমঞ্চে তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সামরিক কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতির মুখে বাধ্য হয়েই ইরানের উপকূলীয় সীমা থেকে অন্তত ৫০০ মাইল দূরে নিজেদের রণতরি ও যুদ্ধজাহাজগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন নৌবহর।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের সাথে ইরান সমর্থিত বাহিনীর সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। আইআরজিসি বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী পূর্বে ইরানের বেশ কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানায় তার জবাবে তারা দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও আটটি বাণিজ্যতরিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দুটি মার্কিন রণতরিকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ইউনিট। একই সাথে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বহাল রয়েছে দাবি করে আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে প্রবেশ করার চেষ্টা চালানো আরও কয়েকটি নৌযান প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মুখোমুখি অবস্থান সংঘাতকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র : ইরনা