তিনি জানান, পাহাড়ি অঞ্চলকে প্রকৃতিবান্ধব ও কৃষি উপযোগী এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার সার্বিক পরিবর্তনে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) তদারকি বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এই কথাগুলো ব্যক্ত করেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে পার্বত্য এলাকাকে কৃষিভিত্তিক অঞ্চলে রূপান্তরিত করার প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এ অঞ্চলে তামাক উৎপাদন বন্ধ করা জরুরি। এর বদলে স্থানীয় চাষীদের আখ, তুলা, কাজু বাদাম ও কফি উৎপাদনে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
আধুনিক কৃষি পদ্ধতির গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি পাহাড়ের অর্গানিক ফলের বাগান এবং রাম্বুটান চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে হিমাগার ও শুষ্ক ফল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের ওপর তাগিদ দেওয়া হয়।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদে পানের যোগ্য সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
ভূমি সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং অবকাঠামোগত কাজ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাগিদ দেন, দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই যাবতীয় উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করতে হবে। সেই সঙ্গে ভূমির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত অধিবাসীদের খাসজমিতে সঠিকভাবে পুনর্বাসিত করার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন। মালিকানা জটিলতা দেখা দিলে আঞ্চলিক ঐতিহ্যগত আইন অনুসরণ করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শিক্ষা বিস্তার ও টেকসই অগ্রগতি অর্জনে মীর হেলাল বলেন, এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে পাহাড়ি ছেলেমেয়েদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ চলছে। পাড়াকেন্দ্রের বালিকাদের বিশেষ শিক্ষার আওতায় আনার পাশাপাশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় তড়িৎগতিতে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের জুলাই মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি তদারকি উদ্দেশ্যে আয়োজিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পাহাড়ি মাটির সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। কাজু বাদাম, কফি, মাশরুম, লটকন উৎপাদন এবং ভেড়া ও মেষ পালনের মাধ্যমে পাহাড়ি অর্থনীতির চিত্র বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়াও বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শীর্ষ প্রতিনিধিগণ এতে অংশ নেন।