শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যৌথ নৌপথ চুক্তি করবে ইরান-ওমান: পেজেশকিয়ান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যৌথ নৌপথ চুক্তি করবে ইরান-ওমান: পেজেশকিয়ান
হরমুজ প্রণালিতে যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত নৌপথ চালুর লক্ষ্যে ওমানের সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ওমানের রাজধানী মাসকটে নির্ধারিত আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই সম্পন্ন হবে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, মাসকটে অনুষ্ঠেয় আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ওমান ও ইরানের যৌথ নৌপথ চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাবে। পরবর্তীতে এই দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার বিস্তারিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা বা আইএমও-কেও আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরানের ওপর সামরিক আঘাত হানতে যেসব প্রতিবেশীর সীমানা ওয়াশিংটন ব্যবহার করেছিল, তারাও এই আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাত ও তেহরানের ওপর আরোপিত আর্থিক বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন, রণাঙ্গনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন এখন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল বেছে নিয়েছে। ইরানি উপকূল ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধের কার্যকারিতা নাকচ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের জাতীয় অস্তিত্ব কেবল সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল নয়, ফলে এ ধরনের চাপ প্রয়োগ করেও যুক্তরাষ্ট্র সফল হতে পারবে না। তবে ওয়াশিংটন যদি অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করে, তবে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেবে বলে তিনি পরিষ্কার করেন।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছিলেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওমানে এই মন্ত্রী পর্যায়ের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই আলোচনায় সামগ্রিক আঞ্চলিক সংকট ছাড়াও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় ইরান ও ওমানের মধ্যকার পূর্ববর্তী পর্যালোচনার ফলাফল পেশ করা হবে। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, জলপথের সুরক্ষা বিধানে ইরান তৎপর থাকলেও মার্কিন নৌঘেরাও ও সামরিক হস্তক্ষেপ চলমান থাকলে বাণিজ্যিক নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচলের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করা দুরূহ।

যদিও প্রস্তাবিত এই সম্মেলন প্রসঙ্গে ওমান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও আসেনি, তবে এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে হরমুজে নতুন একটি নৌ-করিডোর প্রতিষ্ঠার চুক্তি অতি দ্রুতই সই হবে। রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিকল্পিত সেই করিডোরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ মূলত ইরানের হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

সূত্র : অনাদোলু