ন্যূনতম মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর বিমানবন্দর ও উত্তরায় টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক আটকে রাখায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে রাজধানীমুখী দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহনসহ সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তরার জসীমউদ্দীন রোড ও বিমানবন্দর চত্বর এলাকায় বিভিন্ন কারখানার কয়েকশত শ্রমিক সমবেত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত কর্মীদের স্পষ্ট বক্তব্য, বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান ভাতায় দৈনন্দিন সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই মূল মজুরি বাড়িয়ে অন্তত ত্রিশ হাজার টাকা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে কাজে না ফেরার বিষয়ে তারা অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
টানা সড়ক অবরোধের কারণে গণপরিবহন চলাচল পুরোপুরি থমকে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ নাগরিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে আটকে থেকে অনেকেই নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি নিয়ে ভোর থেকে ঢাকায় প্রবেশের মুখে একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।
এর আগের দিন বুধবারও একই দাবিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা সড়ক বন্ধ করে রেখেছিলেন শ্রমিকেরা। পরে দুপুরের দিকে সাময়িকভাবে তারা রাস্তা ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল কিছুটা সচল হয়েছিল। তবে গতকালই শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরদিন পুনরায় রাজপথে নামার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতাতেই বৃহস্পতিবার আবারও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে অচলাবস্থা তৈরি হলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।