চলতি বছর শেষ হওয়ার পূর্বেই একসাথে তিনটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান। মস্কোর সরাসরি প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এই আকাশযানগুলো কক্ষপথে স্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী সাত্তার হাশেমি।
একই সাথে তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ সফলভাবে উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াকে তিনি রাশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সাত্তার হাশেমি স্পষ্ট করেন যে, প্রকল্পাধীন তিনটি কৃত্রিম উপগ্রহ মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত দপ্তর, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কারিগরি প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে।
পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণার সার্বিক অবকাঠামো সম্প্রসারণেও ইরান ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করছে বলে জানান তিনি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির কয়েকটি মহাকাশ গবেষণা স্থাপনা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছে বলেও স্বীকার করেন মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি তথ্য দেন, চাবাহার মহাকাশ কেন্দ্রের প্রাথমিক পর্যায়ের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে, যা পূর্বে মাত্র ৪০ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। কৌশলগত অবস্থানের কারণে দূর অনুধাবন এবং টেলিযোগাযোগ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাহিদ-২ নামের কৃত্রিম উপগ্রহটি কক্ষপথে প্রেরণের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি মতে, প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তি সংযুক্ত করে নির্মিত এই যোগাযোগযন্ত্রটির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় একজন নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
মন্ত্রী আরও বিশদ ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের পরিকল্পিত মহাকাশ বলয়ে মোট চব্বিশটি উপগ্রহের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মূল দায়িত্ব পালন করবে আঠারোটি এবং বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে রাখা হবে আরও ছয়টি।
ঘোষিত রূপরেখার অংশ হিসেবে চলতি মেয়াদেই প্রথম তিনটি যন্ত্র মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবে। অবশিষ্ট আকাশযানগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে ধাপে ধাপে উৎক্ষেপণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি