বিগত সরকারের কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছর ধরে জামায়াত কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ ছায়াতলেই অবস্থান করছিল। সেই বিবেচনা থেকে বিচার করলে আওয়ামী লীগের সংঘটিত অপরাধের মাত্রা জামায়াতের তুলনায় অনেকটা লঘুই মনে হতে পারে।
বিরোধী দলের ওপর বর্তমান সরকারের আচরণ সম্পর্কিত জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের দেওয়া সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে তিনি এই प्रतिक्रिया ব্যক্ত করেন। উক্ত মন্তব্যে বিগত সরকারের তুলনায় বর্তমান আমলের আচরণকে বেশি কঠোর বলা হয়েছিল। রাশেদ খাঁনের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে, যেখানে জামায়াত ও তাদের শরিক রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়েই আন্দোলনের পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আগামী দিনের লংমার্চ প্রসঙ্গের কথা টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, চব্বিশের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে বিপুল আত্মত্যাগ ও হতাহতের ঘটনাকে উক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অনুচিতভাবে হালকা করে দেখা হচ্ছে। অতীতের নানা ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া অর্জনকে অবমূল্যায়ন করে আওয়ামী আমলের নির্যাতনকে সহনীয় হিসেবে তুলে ধরার এই চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নিজের দেওয়া বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাদের অপকর্ম ও অপরাধের দায়ে ছাড় দেওয়ার একটি নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করা হচ্ছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরণের অবস্থান পরিবর্তনের পাশে দাঁড়িয়ে নাগরিক মোর্চার প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম সহ অন্যান্যরা বিষয়টি নীরব সমর্থনের মাধ্যমে উপভোগ করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।