সার্বজনীন ও ব্যয়সাশ্রয়ী বাসস্থান সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই আবাসন গড়ে তোলা অপরিহার্য। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নগরগুলো নিছক আবাসিক এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কর্মসংস্থানের সুযোগ, জ্ঞানচর্চা ও নতুন উদ্ভাবনের মূল কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে সামগ্রিক উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি বজায় রাখতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সুষম নগরায়ণের কোনো বিকল্প নেই। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ভূখণ্ডে অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তীব্র যানজট, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং অপর্যাপ্ত বসতি ব্যবস্থার মতো জটিল সমস্যা প্রতিনিয়ত প্রকট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সার্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণ সংক্রান্ত এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি আরও প্রকাশ করেন যে, জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব, অতিরিক্ত জনচাপ ও জমির আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে, যার নির্মম শিকার হচ্ছে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী শ্রেণি। এই প্রতিকূলতা দূরীকরণে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন, দুর্যোগসহনশীল নির্মাণশৈলী, কাঠামোগত নিরাপত্তা বিধিমালার কড়াকড়ি এবং ভূমির পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।
নগর অঞ্চলের বর্তমান ও আগামী দিনের সংকট উত্তরণে প্রশাসন, বেসরকারি খাত, গবেষক, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কাঠামোর সমন্বয়ে একটি সুন্দর ও জনবান্ধব দেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট দিবসের সার্বিক আয়োজনের সাফল্য প্রত্যাশা করেন।