আগামী আধাকুড়ি বছরের মধ্যে কৃষি খাতে সেচযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পাম্পের জায়গায় সৌরশক্তি চালিত পাম্প চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর এক সদস্য জানতে চান, সেচ কাজে তেলের বদলে বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ সরকারের রয়েছে কি না। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সেচে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছরের ভেতরে ধাপে ধাপে সব পাম্পকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করতে কাজ করছে।
এ সময় সরকারের পরিবেশবান্ধব শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় সবুজ শক্তি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তিসংক্রান্ত কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। যার আওতায় আগামী ২০৩০ সালের ভেতরে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের পাঁচভাগের একভাগ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় তিনভাগের একভাগ পরিবেশবান্ধব উৎস থেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, মাটিতে স্থাপিত প্ল্যান্ট থেকে সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট এবং বায়ু, বর্জ্য কিংবা ভাসমান প্রযুক্তির মতো মাধ্যম থেকে প্রায় পাঁচশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, রূপান্তরের গতি বাড়াতে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় উপাদানের ওপর থেকে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ছাদে প্যানেল বসিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত নির্ধারিত সুবিধাজনক দরে মূল্য পাবেন।
উৎপাদন প্রক্রিয়া বেগবান করতে ইতোমধ্যে পি-পি-পি গাইডলাইন, কার্বন ক্রেডিট নীতি এবং বাণিজ্যিক মডেলসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অপর সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারির ব্যবহার নিয়ে সরকারের কৌশল পরিষ্কার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুরাতন লেড-এসিডযুক্ত ব্যাটারি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হওয়ায় সরকার সেটাকে উৎসাহিত করছে না। এর বদলে পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার। আগামীতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিথিয়াম ব্যাটারি থাকা বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় সেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরের পর্বে তিনটি প্রধান প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন সরকারপ্রধান।