বুধবার ভোরের দিকে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর ভবনের ভিভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত প্রায় এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভুটানের রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সফরে আসার আহ্বান জানান। প্রত্যুত্তরে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ভুটান ভ্রমণের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব লাভ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভকামনা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান ভুটানের রাজা। বিপরীতে বাংলাদেশের শাসনবিভাগ ও জনগণের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
কথোপকথনে দুই দেশের সুদৃঢ় ঐতিহাসিক পথচলার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে ভুটানের অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান।
সাক্ষাৎকালে ভুটানের সাবেক রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন দেশের প্রধান।
উভয় দেশের অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধির যৌথ লক্ষ্যের কথা ব্যক্ত করে শিক্ষা, বাণিজ্যিক লেনদেন ও বিনিয়োগসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার তাগিদ দেন ভুটানের রাজা।
বৈঠকে নিজের সুদূরপ্রসারী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিএসসি’ ভাবনার কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন ভুটানের রাজা এবং এই বৃহৎ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন। রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে উদ্যোগটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি যোগ করেন, ভৌগোলিক অঞ্চলের সামগ্রিক রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বন্ধুপ্রতীম ভুটানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যেতে বাংলাদেশ সবসময় তৈরি।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে পদায়নকৃত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ভুটানের রাজাকে নিয়ে বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভুটানের উদ্দেশে যাত্রা করে।