বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের হামলা

ধাহরান শহরে অবস্থিত আরামকোর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আক্রমণটি পরিচালিত হয়।

সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের হামলা
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের সামরিক পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরবের জাতীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক কার্যালয়ে আক্রমণ চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।

মঙ্গলবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে এই আঘাত হানা হয়। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যক্রম শুরু হয়। এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধাহরান শহরে অবস্থিত আরামকোর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আক্রমণটি পরিচালিত হয়। একই সময়ে রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমা লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, আকাশেই ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ নিচে আছড়ে পড়ে চারজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি অন্তত পনেরোটি আবাসিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে সৌদি ভূখণ্ডের জ্বালানি অবকাঠামোর সন্নিকটে কর্মরত শ্রমিক ও সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হুথিরা। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এই তেল স্থাপনাগুলোকে আক্রমণের বৈধ ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির এই হুমকির আগে সানায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় থাকা ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ প্রধান তেল স্থাপনা থেকে সাধারণ মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ওই নির্দেশের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সানার মাটিতে যেকোনো আঘাতের সমুচিত জবাব দিতে রিয়াদের বুকে কঠোর ও তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে।

সানার জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং পরবর্তী সময়ে আরামকোর দপ্তর ও রিয়াদ অভিমুখে রকেট হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘাতময় পরিস্থিতি নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এই সামরিক তৎপরতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সুরক্ষাকে আবারও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।