শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সৌদি জ্বালানি স্থাপনা ও শহরে হুতিদের হামলায় আহত ৭০, বেড়েছে তেলের দাম

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনও চলছে এবং এর মাত্রা পূর্ববর্তী হামলার কাছাকাছি হতে পারে। আকস্মিক এই নাশকতার খবরে বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

সৌদি জ্বালানি স্থাপনা ও শহরে হুতিদের হামলায় আহত ৭০, বেড়েছে তেলের দাম
ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হুতিদের ধারাবাহিক বিধ্বংসী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা সহ একাধিক প্রধান অর্থনৈতিক ও বেসামরিক অবকাঠামো।

সম্প্রতি সীমান্ত ঘেঁষা জিজান, আবহা, খামিস মুশাইত ও নাজরান শহরকে নিশানা করে এই নজিরবিহীন আক্রমণ চালানো হয়, যাতে অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর একলাফে বৃদ্ধি পেয়েছে।

হুতিদের প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল জিজান শিল্পনগরীতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট 'সৌদি আরামকো'-র প্রধান তেল শোধনাগার। দিনে চার লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিশোধনে সক্ষম এই বিশাল কারখানায় বিগত এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফায় চালানো বড় হামলা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনও চলছে এবং এর মাত্রা পূর্ববর্তী হামলার কাছাকাছি হতে পারে। আকস্মিক এই নাশকতার খবরে বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

লোহিত সাগরের বন্দরসমূহ অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়ে সম্প্রতি নতুন করে যুদ্ধংদেহি অবস্থান নেয় ইরান সমর্থিত হুতিরা। শুধু আকাশপথেই নয়, তারা লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব অভিমুখে নতুন করে স্থল অভিযানও শুরু করেছে, যা ইয়েমেন ও আশেপাশের অঞ্চলে বিগত ছয় বছরের মধ্যে চরম রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। টানা এই সামরিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের সামগ্রিক তেল রপ্তানিতে। বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা কেপলারের মতে, লাগাতার হুমকির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি কেন্দ্র থেকে সম্প্রতি তেলজাত পণ্যের চালান পুরোপুরি থমকে দাঁড়িয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে স্থবিরতা থাকলেও, হুতিদের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মুখে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। নতুন এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত মাসের হামলায় সাময়িক উৎপাদন ব্যাহত হলেও সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র : রয়টার্স