আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা জোরদার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
নিজের ভেরিফায়েড প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পর তেহরানের প্ররোচনায় হুথিরা আবার সৌদি আরবে আক্রমণ শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য ভোটের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উসকে দেওয়া। এ সময় ইরানকে কটাক্ষ করে তিনি দেশটিকে নৌ ও বিমানবাহিনীহীন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কার্যত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিমালার ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, ব্যালটে তার নাম না থাকলেও নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে তিনি মার্কিন সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং হুথিদের বর্তমান এই ভূমিকা তিনি কখনোই বিস্মৃত হবেন না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে একযোগে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সত্তর শতাংশ সাধারণ নাগরিক এই সংঘাতের ঘোর বিরোধী, যদিও এই জরিপকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
এদিকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষকে পুঁজি করে কংগ্রেসে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে চাইছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা, যার ফলে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। অন্যপ্রান্তে সৌদি সামরিক বাহিনীও বসে নেই; তারা ইতোমধ্যে ইয়েমেনের সানা ও হুদাইদাহ শহরের একাধিক তেল শোধনাগার ও স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে হুথিদের জবাব দিয়েছে।