শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলা, নিহত ৯
ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ওপর রাশিয়ার বিমানবাহিনীর সর্বাত্মক হামলায় কমপক্ষে নয়জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও অনেকে জখম হয়েছেন।  এই অভিযানে একাধিক এলাকার জনবসতি ও জাতীয় অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক প্রশাসন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটিতে সাধারণ মানুষের হতাহতের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ওপর মস্কো তাদের আক্রমণ জোরদার করায় কিয়েভও পাল্টা পদক্ষেপে রুশ অঞ্চলের দূরবর্তী তেলের ডিপো ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করছে। এর পাশাপাশি জলপথে একে অন্যের বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রপ্রধান ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন যে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ শতাধিক চালকবিহীন বিমান বা ড্রোন নিক্ষেপ করেছে প্রতিপক্ষ। যুদ্ধক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না দেখে মস্কো এখন অর্থনৈতিক কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে বলে তিনি দাবি করেন। ইউক্রেনীয়দের টিকে থাকার সহায়ক শক্তি বিনষ্ট করা এবং প্রতিরোধব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়াই এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে রুশ সামরিক দপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা জাপোরিজিয়া, দানিপ্রো এবং ক্রিভি রিহ অঞ্চলের ভারী শিল্পাঞ্চল ও ধাতু প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট আঘাত পরিচালনা করেছে। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে এই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে মস্কোর অনুগত দোনেৎস্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে তাদের তিন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের নিকটবর্তী ক্রামাতোর্স্ক নগর কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, দেড় ঘণ্টার মধ্যে একাধিক বেসামরিক যানের ওপর হামলা চালানো হলে তিনজন প্রাণ হারান এবং চারজন গুরুতর আহত হন। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা দৈনন্দিন চলাচলের অংশ হিসেবে সাধারণ যানবাহনে যাতায়াত করছিলেন। এ ছাড়া কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিতোমির প্রদেশের গভর্নর জানান, জভ্যাহেল এলাকার একটি খাদ্যপণ্যের দোকানে আঘাত হানলে দুই ব্যক্তি নিহত হন এবং হামলার শিকার হয় বিদেশি অংশীদারত্বের একটি প্রতিষ্ঠানসহ দুটি জ্বালানি স্টেশন।

এদিকে ইউক্রেনের আকাশসীমায় এ ধরনের তীব্র আক্রমণের রেশ পড়েছে প্রতিবেশী মলদোভায়। আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন শনাক্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে দেশটি সাময়িকভাবে নিজেদের বিমানপথ ব্যবহার স্থগিত রাখে এবং সীমান্তবর্তী সাতটি পারাপার কেন্দ্র প্রায় এক ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

সূত্র : রয়টার্স