শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

কিয়েভে অস্ত্রের গুদামে রুশ ড্রোন হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি অস্ত্রাগারে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে।

কিয়েভে অস্ত্রের গুদামে রুশ ড্রোন হামলায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৭

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি অস্ত্রাগারে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে।

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারটি শিশুও রয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে প্রায় চারশো বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে কিয়েভের বুচা জেলার মিলা গ্রামে। আবাসিক এলাকার একদম গা-ঘেঁষে অবস্থিত ওই সামরিক গুদামে হঠাৎ আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। ড্রোন আঘাত হানার পরপরই সেখানে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, মাইন এবং ড্রোন বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। এর পরোক্ষ প্রভাবে আশেপাশের প্রায় ১৩০টি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিরাপদ দূরত্বের নিয়ম তোয়াক্কা না করে জনবসতির নিকটে এভাবে বিপজ্জনক বিস্ফোরক মজুত রাখায় কড়া সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই ঘটনাকে তিনি চরম গাফিলতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, কোনো অবস্থাতেই লোকালয়ের পাশে সামরিক রসদ রাখা সমর্থনযোগ্য নয়। ইতোমধ্যে এর পেছনে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, মিলা গ্রামের ওই অস্ত্রাগারটিকে লক্ষ্য করেই তাদের অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। মস্কোর দাবি, সেই ঘাঁটিতে মূলত দূরপাল্লার ড্রোন, সেগুলোর যন্ত্রাংশ এবং উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত সামরিক সরঞ্জাম মজুত রাখা ছিল।

এদিকে হামলার ভয়াবহতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুইশো মিটার দূরে অবস্থান করা এক অধিবাসী জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তার বাড়ির দেয়ালে বিশাল ফাটল ধরেছে এবং অবকাঠামো পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে এখনো সাধারণ মানুষ চরম মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, রুশ বিমান হামলার অবিরাম ঝুঁকির মধ্যেও কীভাবে বেসামরিক মানুষের এত কাছাকাছি এসব মারাত্মক বিস্ফোরক রাখার অনুমতি দেওয়া হলো।

এর আগে গত জুলাই মাসেও কিয়েভের অদূরে ভিশনেভে এলাকার আরেকটি অস্ত্রাগারে অনুরূপ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, যাতে ৯ জনের মৃত্যুসহ বহু বাড়িঘর ধসে যায়। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি ঘটায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে।