বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আবারও যুদ্ধের পথে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে দিল স্পষ্ট বার্তা

চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান।

আবারও যুদ্ধের পথে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে দিল স্পষ্ট বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান এই উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের বিষয়টি জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব বজায় রাখার যে ক্রমবর্ধমান ব্যয়, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমেরিকানদের পকেট থেকেই যাবে। নিজের এই দাবির স্বপক্ষে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি তুলনামূলক চিত্রও প্রকাশ করেন।

বিগত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে দূরবর্তী দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ও সাধারণ মূল্যস্ফীতি অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে দাবি করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়েই বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

আরাঘচি আরও সতর্ক করে বলেন, কেবল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি কিংবা শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতাই নয়, মার্কিন অর্থনীতিতে আসল ধাক্কাটা আসবে তখন, যখন সেখানে ব্যাংক ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যে দেশটিতে গাড়ি কেনার জন্য নেওয়া ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি তথ্য দেন। তার মতে, যুদ্ধের এই আবহ যতদিন জিইয়ে রাখা হবে, ততদিন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তেই থাকবে এবং মার্কিন অর্থনীতি এক চরম মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী নীতিকে কটাক্ষ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ওয়াশিংটন আসলে একটি সাজানো যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তাদের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

অর্থনৈতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বাজারে ছেড়েছে, যা গত দুই দশকের ইতিহাসে বিরল। এর পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে ঠেকেছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে যদি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ে, তবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার মূল অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রসীমায় নিজেদের একচ্ছত্র সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দাবি করলেও, পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলো এটিকে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবেই বিবেচনা করে থাকে।

এই বিষয়ে ইরানি সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা ইতিমধ্যে একটি নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করেছেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে এবং বাকিদের এই জলপথ ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করতে হবে।