আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাচ্ছেন এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), এবং এ বিষয়ে কোনো আপিল না করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের রায় কার্যকর করবো। যেহেতু এই মামলায় আমাদের পক্ষভুক্ত করা হয়নি, তাই কমিশন থেকে কোনো আপিল করা হচ্ছে না।’
এর আগে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে, বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় নুসরাত তাবাসসুমের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করেন এবং সোমবার (২৬ এপ্রিল) আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ইসিকে নির্দেশ দেয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই শেষে বৈধ প্রমাণিত হলে এবং কোনো আপিল না থাকলে তিনি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। ওই সময়ের মধ্যে মোট ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, স্বতন্ত্র জোটের একজন এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনজন প্রার্থী ছিলেন।
২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাইয়ে নুসরাতের মনোনয়নপত্র তালিকার বাইরে চলে যায়। একই জোটের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিন সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের নির্ধারিত সময় পূরণ না করায় অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে জামায়াত জোট থেকে ১২ জন প্রার্থী বৈধ থাকেন।
তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।