বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার: ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপান্তর

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি পরিবারের সর্বস্ব ভস্মীভূত হয়েছে। রান্নার চুলা থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনে বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি গবাদিপশুও প্রাণ হারিয়েছে। ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও গ্রামের নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়িতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার: ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপান্তর
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি পরিবারের সর্বস্ব ভস্মীভূত হয়েছে। রান্নার চুলা থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুনে বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি গবাদিপশুও প্রাণ হারিয়েছে। ঈদের রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার সকালে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও গ্রামের নুরুজ্জামান সওদাগরের বাড়িতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের শিকার পরিবারগুলো হলো— শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শাহেদ এবং তার দুই ভাই নুর আমিন ও নুর আজিজসহ মো. হান্নানের পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে এবং ঘরে থাকা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রী ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের একটি শিশু রান্নাঘরে কাজ করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরে কেউ না থাকায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। গ্রামবাসী শুরুতে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান এবং ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকার সরু রাস্তার কারণে পানিবাহী একটি বড় গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে অন্য ইউনিটের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রায় আধা ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনে সবকিছু হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রতিবন্ধী মো. শাহেদ। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা তাকে ঘর থেকে বের করে আনলেও নিজের চোখের সামনে সহায়-সম্বল পুড়ে যেতে দেখেছেন। নুর আজিজের স্ত্রী সুমি আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, বাচ্চাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় কিনেছিলেন, কিন্তু আগুনের হাত থেকে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তাদের পরনের কাপড়টুকুও অন্যের দেওয়া।

আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবদুল্লাহ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার লাখ টাকা ধরা হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি এর পরিমাণ অনেক বেশি।