মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এআই ব্যবহার করে যেভাবে বোমা বানাচ্ছে আইএস!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন আর শুধু প্রযুক্তি বা সাধারণ তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে শক্তিশালী বোমা তৈরি, হামলার পরিকল্পনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ও বোকো হারামের সদস্যরা।

এআই ব্যবহার করে যেভাবে বোমা বানাচ্ছে আইএস!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এখন আর শুধু প্রযুক্তি বা সাধারণ তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে শক্তিশালী বোমা তৈরি, হামলার পরিকল্পনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ও বোকো হারামের সদস্যরা।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এআই চ্যাটবটগুলোর ক্ষতিকর তথ্য ঠেকাতে থাকা নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে নিয়মিতভাবে ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিক, মেটা এবং ইলন মাস্কের ‘গ্রক’-এর মতো এআই ব্যবস্থার কাছ থেকে সামরিক ও কারিগরি পরামর্শ নিচ্ছে তারা। গবেষণাটি সাবেক বোকো হারাম সদস্যদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এআই ব্যবহারের এমন চিত্র সামনে এনেছে।

জঙ্গি আস্তানায় এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ

গবেষণায় বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার জঙ্গল ও জঙ্গি আস্তানাগুলোতে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর ব্যবহার করে সাধারণ সদস্যদের এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। নতুন কোনো অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বুঝতে সমস্যা হলে তাদের এআইয়ের কাছে জানতে বলা হতো। এ ক্ষেত্রে ‘শুধু গ্রককে জিজ্ঞেস করো’—এমন পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বোমা তৈরির সময় কোনো সমস্যায় পড়লেও এআইয়ের সহায়তা নেওয়া হতো। হাতে থাকা সীমিত উপকরণ ব্যবহার করে বিস্ফোরণের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ পেতে জঙ্গিরা চ্যাটবটের দ্বারস্থ হতো। ফলে এআইকে তারা অনেকটা ২৪ ঘণ্টার একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে ব্যবহার করছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ব্যবহারের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষকদের মতে, এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, এর নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘সেফটি গার্ডরেল’ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তত বাড়ছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার কথা জানালেও, এসব ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বোকো হারামের সদস্যদের এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংগঠনের ভেতরে এআই ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এআই খাতে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে তুলনামূলক কম নিয়ন্ত্রণের নীতির পক্ষে থাকায়, এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপরও বড় দায়িত্ব বর্তাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের এআই নীতিতে ‘ন্যূনতম বোঝাসম্পন্ন’ কাঠামোর ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

গবেষকদের আশঙ্কা, এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে কার্যকরভাবে উন্নত না হলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অপব্যবহারের ঝুঁকিও আরও বাড়তে পারে।