বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন। ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক এই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ যে ভয়াবহ নির্যাতন ও লুটপাট চালিয়েছে, তার দায় থেকে তারা মুক্ত হতে পারে না। এত বড় গণহত্যার পরও দলটির নেতৃত্ব বা তাদের নেত্রীর মধ্যে কোনো প্রকার অনুশোচনা কিংবা ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা দেখা যায়নি। উল্টো তারা জুলাই বিপ্লবের বীরদের বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন গণদাবীর আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের আত্মত্যাগ অনন্য। তাদের এই সাহসিকতার ফলেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। তবে এই অর্জন অক্ষুণ্ণ রাখতে সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিজেদের মধ্যে কোনো ধরণের ফাটল দেখা দিলে স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থান ঘটতে পারে। এ দেশের মাটিতে আর কখনোই যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ভবিষ্যতে দেশের কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করতে না পারে, সে জন্য ‘জুলাইয়ের চেতনা’ অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে এই পবিত্র চেতনাকে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
বিগত শাসনামলের অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া যারা বিদেশে পালিয়ে আত্মগোপন করেছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপশি দেশের ছাত্র রাজনীতিকে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনগুলোকে আর কোনোভাবেই কলুষিত হতে দেওয়া হবে না। উক্ত আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।