বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি সংলাপে অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) উচ্চপর্যায়ের এই ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংঘাতকবলিত মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এই সংলাপকে কেন্দ্র করে পুরো ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ মোট ৭১ জন সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে (এয়ার ফোর্স টু) চড়ে ওয়াশিংটন থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক আয়োজন সফল করতে ইসলামাবাদ প্রশাসন ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সমৃদ্ধ ‘রেড জোন’ এলাকাটি সব ধরনের সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মীদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টারকে তথ্য প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে। শহরজুড়ে হাজার হাজার আধাসামরিক বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা পুরো শহরকে কার্যত এক কঠোর আবষ্টনীতে রূপ দিয়েছে।
তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে দুই দেশের মধ্যেই প্রবল অবিশ্বাস ও শর্তের বেড়াজাল পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত না দিলে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়া কঠিন। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে দুই মেরুর অবস্থান সংলাপে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। ইরান দাবি করছে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।
হোয়াইট হাউস এবং তেহরান—উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যাত্রা শুরুর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে তবে মার্কিন প্রতিনিধি দল কঠোর অবস্থান নেবে। সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই সংলাপ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।