শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

"আমরা চাই না, দেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক" : আইনমন্ত্রী

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের সব বিতর্ক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিতর্কিত কোনো চরিত্রের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চায় না বর্তমান সরকার।

"আমরা চাই না, দেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক" : আইনমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতের সব বিতর্ক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিতর্কিত কোনো চরিত্রের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চায় না বর্তমান সরকার।

আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আমরা চাই না, দেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না, দেশে আর কোনো খাইরুল হক গজিয়ে উঠুক। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপনের পর বিরোধী দলীয় সদস্যের আপত্তির জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদীয় অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সুপ্রিম কোর্টে দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের স্থান দিয়ে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। অতীতে যেভাবে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, তার ফলে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এমন একটি বিচার বিভাগ গড়ে তোলা, যা সারা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রস্থলে পরিণত হবে।

আগের সরকারের সময়ে অ্যাটর্নি হিসেবে নিজের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী জানান, একজন আইনজীবী হিসেবে তখন তিনি মক্কেল বা সরকারের নির্দেশনা ও জননীতি অনুযায়ী আদালতে বক্তব্য পেশ করেছেন। তবে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারক হিসেবে তার অগ্রাধিকার হচ্ছে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সুপ্রিম কোর্ট যেন প্রকৃত অর্থেই ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে, সেজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানো হবে। বিচার বিভাগে কোনো ধরনের দলীয় ক্যাডার বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে যোগ্যতম ব্যক্তিদের আসীন করাই বর্তমান সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। এই সংস্কারের মাধ্যমেই দেশের বিচার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।