ইরানে চলমান সামরিক সংঘাতের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক নীতি ও ভুল রণকৌশলকে দায়ী করেছে তেহরান। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের এই ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল ট্রাম্পকে অবশ্যই দিতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী লারিজানি বলেন, বর্তমানে ইরান ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রান্ত আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশেরই প্রতিফলন। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেবেছিল ভেনেজুয়েলায় তারা যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছে, ইরানেও সেই একই মডেল সফল হবে। কিন্তু এই পরিকল্পনা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন এখন নিজেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। লারিজানি দাবি করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে এবং তারা এখন নিজেদের তৈরি করা গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছে।
ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভুল পদক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাকে এই অপকর্মের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলে। তবে কোনো প্রকার সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও দেশটিতে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আক্রমণ শুরু করে।
বর্তমানে এই অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। আলী লারিজানির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান এই লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদী রূপ দিতে এবং ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে তাদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।