বৈষম্য, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির অবসান ঘটিয়ে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দেশের সাধারণ মানুষকে আরেকটি অবশ্যম্ভাবী গণ-অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী কিংবা কোনো বিশেষ পরিবারের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াই।
শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় কার্যকর ও চলমান জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট এই সমাবেশের আয়োজন করে। যুবসমাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মকে শোষণমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই নতুন যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দলটি দেশের মানুষের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বিএনপিকে তাদের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে শামিল হওয়ার এবং জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানোর পরামর্শ দেন।
বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, কারচুপি, জালিয়াতি এবং সুক্ষ্ম প্রকৌশলের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। তীব্র ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও দেশের ভেতরে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা সহিংস পরিস্থিতি এড়াতে তারা সেই সময় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো অপশক্তির অন্যায় বা কারও চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না এবং অন্যায়ের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
দেশের সীমানা সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশ জোরপূর্বক তাদের নাগরিকদের পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই সংকটে দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সাধারণ মানুষ সবসময় সীমান্ত রক্ষীদের পাশে থাকবে।
কোনো ধরনের বৈদেশিক আধিপত্যবাদ বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দেন যে, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত এ দেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনা ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।