ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে তাকে স্মরণ করে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তার পুত্র এবং দেশটির বর্তমান শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তার পিতার মৃত্যুকে শত্রুপক্ষের এক ভয়াবহ ও নৃশংস অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোজতবা খামেনি তার বার্তায় বলেন, ইসলাম ও ইরানের শত্রুদের পরিকল্পিত হামলায় ইসলামি বিপ্লবের পথপ্রদর্শক এবং প্রতিরোধের প্রধান পুরুষ আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতের আজ ৪০ দিন অতিবাহিত হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক অভিযানে খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান এক কঠিন ও সংকটময় সময় পার করছে। মূলত দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দুই দশকের উত্তজনা গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিনের আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পরপরই মিত্র দেশ দুটি ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে।
টানা ৩৭ বছর ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান। সেই ভয়াবহ হামলায় তার পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য, যার মধ্যে তার স্ত্রী, কন্যা ও নাতনি রয়েছেন, তারাও নিহত হন। বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি নিজেও ওই আক্রমণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তাকেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা থাকলেও ইরানি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর নয়। বর্তমানে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ আমন্ত্রণে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ১২ মার্চ থেকে তিনি সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও শোকবার্তা প্রদান করছেন। ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর খামেনির দীর্ঘ শাসনামলের এই আকস্মিক সমাপ্তি ইরানকে এক নতুন রাজনৈতিক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
মস্কো থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার পিতার আত্মত্যাগকে প্রতিরোধের নতুন শক্তিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে মোজতবার এই আবেগঘন বার্তা মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার একটি কৌশলগত প্রয়াস। খামেনি পরবর্তী যুগে ইরান এখন কোন পথে অগ্রসর হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।