শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাকৃবির আশরাফুল হক হলে বাঁধনের উদ্যোগে নবীনবরণ ও রক্তদাতাদের সংবর্ধনা

মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীনবরণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পাঁচবারের বেশি রক্তদানকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন।

বাকৃবির আশরাফুল হক হলে বাঁধনের উদ্যোগে নবীনবরণ ও রক্তদাতাদের সংবর্ধনা

মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীনবরণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সম্মাননা অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি পাঁচবারের বেশি রক্তদানকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন।

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হলের কমনরুমে বাঁধন আশরাফুল হক হল ইউনিটের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া ছিলেন প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম ও অধ্যাপক ড. ওয়াকিলুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, বাঁধন আশরাফুল হক হল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁধন আশরাফুল হক হল ইউনিটের সভাপতি সালমান ফারসি। সঞ্চালনা করেন ইউনিটের সম্পাদক আফিফ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা ও এর মানবিক দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, রক্তদান একটি মহৎ উদ্যোগ, যা সংকটাপন্ন মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় প্রথম বর্ষের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাঁধনের ব্যানারে পাঁচবারের বেশি রক্তদানকারী সদস্যদের দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, 'রক্তদানে একরকমের আত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। এটা যেমন মানবিক কাজ তেমনি রক্ত দিলে আমাদের শরীরের ব্লাড সার্কুলেশন গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। রক্তদান করা শারিরীক সুস্থতার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত রক্ত দিলে হার্ট ডিজিজ কম, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রিত থাকে। ৫২ বছর পর্যন্ত ৩ মাস অন্তর অন্তর রক্ত দেওয়া যাবে। তাই সবাইকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।'

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, 'যারা বারবার রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে এগিয়ে এসেছে, তাদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঁধনের মতো সংগঠন ছিল না, তাই এমন মহৎ কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাইনি। এখানে এমন রক্তদাতা রয়েছেন যারা ১১ বার, ২৩ বার পর্যন্ত রক্তদান করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়।'

তিনি আরও বলেন, 'মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করা এক মহান মানবিক কাজ। আমি বিশ্বাস করি, যারা রক্তদানের মতো ভালো কাজে যুক্ত থাকে, তারা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে। আজ যেসব নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করা হয়েছে, তারাও ভবিষ্যতে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হবে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।'