শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশের আমদানি করা জ্বালানির তথ্য চেয়েছে ইরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এপ্রিল মাসে চলাচলকারী ছয়টি বিশেষ জাহাজের বিস্তারিত তালিকা তেহরানের কাছে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তথ্য সরবরাহ করেছে জ্বালানি বিভাগ। মূলত ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের আমদানি করা জ্বালানির তথ্য চেয়েছে ইরান
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে এপ্রিল মাসে চলাচলকারী ছয়টি বিশেষ জাহাজের বিস্তারিত তালিকা তেহরানের কাছে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তথ্য সরবরাহ করেছে জ্বালানি বিভাগ। মূলত ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পত্র পাঠিয়ে বাংলাদেশগামী এলএনজি ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর সর্বশেষ অবস্থান ও তথ্য জানতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই জ্বালানি বিভাগ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী প্রায় ৫ লাখ টন এলএনজি এবং ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী ছয়টি জাহাজের লোডিং তারিখ, কার্গো সক্ষমতা ও আইএমও নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য প্রস্তুত করে। এই তালিকায় থাকা পাঁচটি এলএনজি চালান কাতার থেকে এবং অপরিশোধিত তেলের একটি চালান সৌদি আরব থেকে আসার কথা রয়েছে।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নৌপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সহায়তা চেয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিল, যেখানে আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তিশালী অবস্থানের কথা মাথায় রেখেই ঢাকা এই কৌশলগত সহযোগিতা চেয়েছে।

তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে কাতারএনার্জি থেকে আসা চারটি এলএনজি চালান বাহামা ও গ্রিসের পতাকাবাহী ‘আল আরিশ’, ‘মারান গ্যাস এফেসোস’, ‘আল মাররৌনা’ ও ‘লুসাইল’ জাহাজে করে এপ্রিলে বিভিন্ন তারিখে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া এক্সেলারেট গ্যাস মার্কেটিংয়ের একটি চালান নিয়ে ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ ২ এপ্রিল রওনা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরামকো থেকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নর্ডিক পলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পথে রয়েছে, যার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধের আগে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ থেকে ১০ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা গড়ে ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিটি জাহাজের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছানো বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।