সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে অবহিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রশাসন। একই সঙ্গে তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ যথাযথ কূটনৈতিক মাধ্যমে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে ঢাকাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে আটক হন সাবেক এই আইজিপি। গত ১২ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে থাকাকালীন তাকে হেফাজতে নেয় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন আবুধাবি শাখা থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা শাখায় এই সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক বার্তা পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি নথিসহ অভিযুক্তকে ফেরত নেওয়ার জন্য ঢাকাকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট বা প্রত্যর্পণ আবেদন পেশ করতে হবে।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে ইন্টারপোলের যে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আটকের পর তাকে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটির বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক স্থানীয় ফেডারেল আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আদেশ দেন।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এই ধরনের আটকের পর নির্দিষ্ট ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে লিখিতভাবে অনুরোধপত্র দাখিল করতে হয়, অন্যথায় আসামিকে আটকে রাখার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।
আরব আমিরাতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে ফেরত পেতে হলে মূল আবেদনপত্রের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির সম্পূর্ণ আরবি অনুবাদ কপি, উপযুক্ত সিলমোহর ও স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিসমূহের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, ছবি, জাতীয়তা ও বর্তমান আবাসস্থলের তথ্য। এছাড়া যে অপরাধের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে তার সংশ্লিষ্ট ধারা, সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সময়সীমার আইনি ব্যাখ্যা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার এজাহার, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও ধরনসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি এবং ব্যক্তিটি যদি ইতিমধ্যে দণ্ডিত হয়ে থাকেন, তবে আদালতের মূল রায়ের দাপ্তরিক কপি সংযুক্ত করতে হবে।