শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক হওয়া পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে অনতিবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক হওয়া পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে অনতিবিলম্বে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই তথ্য জানান। এর আগে দুপুরের দিকে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করা হয়েছিল।

সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি দ্রুত শুরু করা হবে। এই পদক্ষেপকে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও জানান, বন্দিবিনিময় ও গ্রেফতারের পুরো প্রক্রিয়াটি সফল করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সাথে দেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সমন্বয় সাধন করছে। গত ১২ জুন সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রটোকল অনুযায়ী আটকের দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তাকে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে হবে।

আইনি নথির ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক মো. জাকির হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন।

তারও আগে, চলতি বছরের ৮ মার্চ অবৈধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের দায়ে করা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। সে সময় ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের দাখিল করা চার্জশিটটি আমলে নিয়ে এই পরোয়ানার আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এই অর্থসংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় দুদক।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তাঁর দাখিলকৃত বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির উল্লেখ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁর নামে প্রকৃতপক্ষে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ লাখ ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পত্তির অকাট্য প্রমাণ পান, যা তাঁর ঘোষিত হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।