শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

দেশের শাসনব্যবস্থায় বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা ও ঐতিহাসিক জুলাই সনদের প্রতিটি দিক পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত
দেশের শাসনব্যবস্থায় বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা ও ঐতিহাসিক জুলাই সনদের প্রতিটি দিক পুরোপুরি বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত রাজনৈতিক শরীকদের সম্মানার্থে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় ও নৈশভোজ শেষে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা জানান। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংলাপে বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফখরুল উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় গণদাবি অনুযায়ী ৩১ দফা ও সকল দলের স্বাক্ষরিত সনদ বাস্তবায়নের পুনরুক্তির কথা তুলে ধরেছেন।

এই যৌথ রাজনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনা দেশের রাজনীতিতে চরমপন্থা, স্বৈরতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান অবস্থানকে আরো শক্তি যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সুদীর্ঘ লড়াইয়ের নানান অভিজ্ঞতা, কারাবরণ, সাজানো মামলা এবং আত্মত্যাগের স্মৃতির কারণে পুরো আলোচনার আবহে একটি বৈপ্লবিক আবেগ বিরাজ করছিল বলে জানান মহাসচিব।

অনুষ্ঠানে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সূচনাপর্বের পাঁচ মাসের সামগ্রিক কর্মপদ্ধতির প্রশংসনীয় মূল্যায়ন করেন শরীক দলের শীর্ষ নেতারা। টানা ব্যস্ততার দরুন রাজনৈতিক মিত্রদের সাথে ঘন ঘন বসা না গেলেও আগামী দিনগুলোতে এই ধরনের মতবিনিময় আরো জোরদার করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেন মির্জা ফখরুল। একই সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ে বিরোধী শিবিরের অনন্য ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সরকারপ্রধান।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ শুরু করার তথ্য তুলে ধরে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মাফ করা, সুবিধাভোগীদের জন্য বিশেষ কার্ড সুবিধা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াবিদদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা এবং খাল খননসহ বিভিন্ন শিক্ষা-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নতুন করে শুরুর কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের প্রারম্ভে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের স্মরণ ও আহতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সরকার পরিচালনার পাঁচ মাসের মাথায় রাজনৈতিক ঐক্যের এই মেলবন্ধনকে দেশের গণতান্ত্রিক পথচলায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উক্ত ব্রিফিংয়ের সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।