পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তোলায় রাজ্যজুড়ে তীব্র বির্তক সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যরাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ইভিএমের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করতে স্ট্রংরুমে উপস্থিত হয়েছেন, যা উত্তপ্ত পরিবেশকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৪ মে ভোট গণনার আগে তৃণমূল কংগ্রেস একটি ভিডিও প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের দাবি তুলেছে। শাসক দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা একটি সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে তৃণমূল দাবি করেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্যালট বক্স খোলা হয়েছে। একে তারা পরিকল্পিত নির্বাচনী জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে গিয়ে সরাসরি পরিস্থিতি তদারকি করেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই টিকে থাকবেন—এই প্রশ্ন যখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে, ঠিক তখনই নতুন এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপগুলো ভিন্ন ভিন্ন আভাস দিচ্ছে। জনমত জরিপকারী সংস্থা ‘টুডেজ চাণক্য’র পূর্বাভাসে মমতার সরকারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি একাই ১৯২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল ও তাদের মিত্রদের আসন কমে ১০০-এর কাছাকাছি নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে তাদের ভোটের হার হতে পারে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের জন্য ১৪৮টি আসনের প্রয়োজন হয়। বেশিরভাগ বুথফেরত জরিপে বিজেপিকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হলেও কিছু সংস্থা তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী। ‘পিপলস পালস’-এর তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল পেতে পারে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন এবং বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন। একইভাবে ‘জনমত’ নামের আরেকটি সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, তৃণমূল ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। ফলে আগামী ৪ মে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত রাজ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।