ভারতের রাজধানী দিল্লির শাহদারা অঞ্চলের বিবেক বিহার এলাকায় একটি চার তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনে বিধ্বংসী আগুনের ঘটনায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার ভোরে সংঘটিত এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১২ জন বাসিন্দা গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে ভবনটি থেকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি বিস্ফোরণ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎ এক বিকট আওয়াজে স্থানীয়দের ঘুম ভেঙে যায়। এরপরই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দ্রুত অনুধাবন করতে পারেননি তারা। ধোঁয়ার কুন্ডলী সিঁড়ি ও যাতায়াতের পথগুলো আটকে দেওয়ায় অনেক মানুষ নিজেদের ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে বারান্দা বা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, এমনকি কয়েকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে নিচে লাফ দিতেও দেখা গেছে।
সংবাদ পেয়ে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা ও আগুন নির্বাপণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আটকা পড়াদের বের করে আনেন কর্মীরা। উদ্ধার কাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে ভবনের অভ্যন্তরে আর কেউ অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিতে পুলিশ ও দমকল কর্মীদের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগের অবস্থা এবং যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। জনবহুল এই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা দিল্লির বহুতল ভবনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় দমকল বাহিনীর চলাচলের পথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।