শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল একলাফে ৩ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল একলাফে ৩ ডলার
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে বিমান আক্রমণ এবং সোমবার ভোরের দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন নগরীতে বিকট বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তেলের বাজারে এই তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটা এবং বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার যে সুড়ঙ্গপথ তৈরি হয়েছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালের দিকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ২০ সেন্ট বা প্রায় ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ২৪ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন বাজারে অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআই-এর দামও ২ ডলার ৮৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৯৩ ডলার ৪১ সেন্টে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক সংকটের পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলের শুরু থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখায় যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। তবে ইরান বিশ্ববাজারের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের প্রধান যাতায়াত পথ হরমুজ প্রণালিতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নিজেদের নিষেধাজ্ঞা কঠোর করেছে।

বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের এই চরম মুহূর্তের মধ্যেই খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস গত চার মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে বাজারের ঘাটতি মেটানো সম্ভব হবে না। কারণ মূল ট্রানজিট রুট হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় ওপেক প্লাসের সিংহভাগ সদস্য রাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাশিয়ার তেল উৎপাদন ক্ষমতাও আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাসের এই উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে।