সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসগুলোর চেয়েও অধিক সংক্রামক ও ভয়ংকর এক নতুন ভাইরাস ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মহামারির সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ইনফ্লুয়েঞ্জা গোত্রের এই অপরিচিত ধরনটি অত্যন্ত দ্রুত নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে সক্ষম। সম্প্রতি ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার আরেকটি রূপ ‘সাবক্ল্যাড কে’ সক্রিয় থাকলেও গবেষকদের মূল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রহস্যময় ডি ধরনটি।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি একটি আরএনএ ভাইরাস যা দীর্ঘকাল কেবল গবাদি পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে আমেরিকা ও জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভাইরোলজিস্টদের দাবি, ভাইরাসটি এখন পশুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে। যদিও এটি এখনও মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করেনি, তবে পশু খামারের কর্মীদের শরীরে এর অ্যান্টিবডি পাওয়ায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। উচ্চ তাপমাত্রায় টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা এবং যেকোনো আবহাওয়ায় স্থিতিশীল থাকার বৈশিষ্ট্য একে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের লিভারে উৎপন্ন হওয়া ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামক একটি প্রোটিন এই ভাইরাসের সংক্রমণ প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে এই প্রোটিন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে লিভার ও ফুসফুসের কোষগুলোকে সরাসরি আক্রমণ করে। এমনকি এটি কোষের শক্তির উৎস মাইটোকন্ড্রিয়াকে ধ্বংস করে সুস্থ কোষের মৃত্যু ঘটায়, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ থাকলেও এটি শরীরের ভেতরে খুব দ্রুত ভাইরাসের বিভাজন ঘটাতে পারে।
বর্তমানে ভাইরাসটি ঠিক কবে নাগাদ চরম সংক্রামক রূপ নিয়ে বড় বিপর্যয়ের কারণ হবে তা নিশ্চিত না হলেও বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা এর ওপর কড়া নজর রাখছেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসের বিস্তার রুখতে এবং কার্যকর প্রতিষেধক তৈরি করতে এখন থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে। অধিক অভিযোজনক্ষম এই ভাইরাসটিকে সাধারণ ফ্লু ভেবে অবহেলা না করে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী দিনে এটি যেন করোনার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ।