শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে তালগাছ রোপণসহ একাধিক উদ্যোগ দিয়েছে সরকার

দেশের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জনপদে বজ্রপাতের প্রকোপ ও এর ফলে সৃষ্ট মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে তালগাছ রোপণসহ একাধিক উদ্যোগ দিয়েছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জনপদে বজ্রপাতের প্রকোপ ও এর ফলে সৃষ্ট মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে আনতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার।

জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য সাইরেন বসানো, বজ্রনিরোধক দণ্ড বা টাওয়ার নির্মাণ এবং প্রকৃতিবান্ধব তালগাছ রোপণের কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যের আনা একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, হাওরবেষ্টিত উপজেলাগুলোতে বছরের বড় একটা সময় কৃষিজীবী ও জেলেরা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে আকস্মিক বজ্রপাতে সেখানে নিয়মিত প্রাণহানি ঘটছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় বজ্রপাতের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হলেও হাওরবাসীর জানমাল রক্ষায় কার্যকর গবেষণা ও বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।

সংসদ সদস্যের উদ্বেগের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তিনি সংসদকে অবহিত করেন, সরকার এই সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকরা যাতে বজ্রপাতের পূর্বাভাস পেয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে সাইরেন স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া যান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যুৎ চমকানোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা হিসেবে তালগাছ রোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোকে আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত করা হচ্ছে। হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ করতে এই প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।