সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট আবারও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট। নতুন নকশার নোট ছাপাতে ধীরগতি এবং নগদের বাড়তি চাহিদার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট আবারও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নোট। নতুন নকশার নোট ছাপাতে ধীরগতি এবং নগদের বাড়তি চাহিদার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই এসব নোট পুনরায় বিতরণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই এগুলো বাজারে ছাড়তে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।”

গত বছরের (২০২৫) রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই নোট বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও উপস্থাপনা নিয়ে কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কিছু অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার তখনই প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট বাজারে না ছাড়লে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।

নতুন নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ভল্টে আটকে থাকা নোট অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। এই কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরোনো নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ চলছে। তবে সরবরাহের গতি চাহিদার তুলনায় ধীর। যেহেতু পুরোনো নোট নিষিদ্ধ হয়নি এবং বাজারে নগদের চাহিদা রয়েছে, তাই এগুলো ধাপে ধাপে ছাড়া হচ্ছে।”

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা পুরোনো নোট বিতরণ শুরু করেছেন।
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সালের ঈদুল আজহার সময় পুরোনো নোট বিতরণ বন্ধ ছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা আসে এগুলো স্বাভাবিকভাবে বিতরণ করার জন্য। এরপর থেকেই আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটগুলো চলমান রেখেছি।”

ব্যাংকারদের মতে, দেশে নগদ টাকার চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে, বিশেষ করে উৎসবের সময়। নতুন নোট ছাপানোর ধীরগতি বিবেচনায় রেখে পুরোনো নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম চালু হবে না। তবে খোলা বাজারে নতুন নোটের চাহিদা কমেনি। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট অনেক ক্ষেত্রে ‘নতুন নোট’ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য এক ধরনের অদৃশ্য লেনদেন তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর ধীরগতি এবং পুরোনো নোট সিলগালা রাখার সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তবে এখন পুরোনো নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তকে বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোট ছাপানোর কাজ অব্যাহত থাকবে এবং ধীরে ধীরে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে বাজারের চাহিদা মেটাতে পুরোনো নোটই প্রধান ভরসা।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ভবিষ্যতে মুদ্রা নকশা বা প্রতীক পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আর্থিক ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু রাজনীতিতে নয়, দেশের অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।