শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বন্যার্তদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে হবে: রিজভী

পাহাড় ধস এবং আকস্মিক বন্যার কবলে পড়া দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বন্যার্তদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে হবে: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

পাহাড় ধস এবং আকস্মিক বন্যার কবলে পড়া দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উপদ্রুত এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে যেন সঠিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ পৌঁছায় এবং কোনো একটি মানুষও যেন অনাহারে দিন না কাটায়, তার জন্য ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।


আজ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক পাহাড় ধসের ফলে যে ভয়াবহ প্লাবন সৃষ্টি হয়েছে, তাতে গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক একটি খসড়া হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিনশ কোটি টাকার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে, যা প্রকৃত বিচারে আরও বেশি হতে পারে। তবে এই সংকটে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও জানান, সরকারপ্রধান ইতোমধ্যে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের সাথে ভার্চুয়াল মাধ্যমে জরুরি বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। তিনি দুর্গত এলাকার সামগ্রিক অবস্থা ও পানি বাড়া-কমার খবর ব্যক্তিগতভাবে রাখছেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

বন্যাদুর্গতদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় আমাশয় কিংবা চর্মরোগের মতো যে সমস্ত পানিবাহিত ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটে, তা নিরাময়ে সিভিল সার্জনসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্যাকবলিত প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরে যেন প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধসামগ্রী পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও তৎপরতা চলছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ যুগ যুগ ধরে এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে রয়েছে। বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যুগে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে মাথায় রেখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে সরকার যে সমস্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

বিগত শাসন আমলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী সরকার দেশের মানুষের ভালো-মন্দের কথা বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করায় দেশে দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে। ওইসব প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার খেসারত হিসেবে বর্তমান দেশের সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ বিতরণকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরী, গ্রামীণ জনপদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের যেসব কালভার্ট ও খাল অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো উচ্ছেদ করার কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তির জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

দুর্যোগ কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।