বরগুনার পাথরঘাটায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে ১৯২ ব্যারেল ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার বিকেলে পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ইতলা এলাকায় বিএফডিসি রোড সংলগ্ন ‘গাজী স্টোর’-এ এই অভিযান চালানো হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তেল মজুত রাখায় ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির এজেন্ট মো. গাজী আব্দুল্লাহকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পাথরঘাটার স্থানীয় জেলে ও ট্রলার মালিকরা অভিযোগ করে আসছিলেন যে, সমুদ্রগামী ট্রলারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল ব্যারেল প্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি বাড়তি দাম না দিলে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সাধারণ মৎস্যজীবীদের। এই জনভোগান্তি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং উপজেলা প্রশাসন গোপনে অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পালের নেতৃত্বে গাজী স্টোরে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গুদামে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৩৮ হাজার লিটার বা ১৯২ ব্যারেল ডিজেল পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আর্থিক দণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধারকৃত ডিজেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় জেলেদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাথরঘাটায় হাজার হাজার জেলে ও শত শত মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আসছিল। এই অভিযানের ফলে সাধারণ জেলেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
অভিযান প্রসঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মুনাফা লাভের চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।