আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার নিকসান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেন বিজিবির মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. রকিবুল ইসলাম রনি।
চিকিৎসা প্রদান শেষে বিজিবির এই মেডিকেল অফিসার জানান, আশ্রয় কেন্দ্রে আসা রোগীদের সিংহভাগই বিভিন্ন মৌসুমি রোগে ভুগছেন। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে সর্দি এবং নারী ও বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত কাশি, হাঁপানি ও প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা গেছে। বিজিবির মেডিকেল টিম অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই সব রোগীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে বিজিবির এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কয়েক দিন ধরে বাচ্চার শরীরটা বেশ অসুস্থ ছিল। এখানে এসে কোনো খরচ ছাড়াই বড় ডাক্তার দেখানোর পাশাপাশি সব ওষুধ ফ্রিতে পেয়েছি, যা এই বিপদের দিনে অনেক বড় সাহায্য।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর আইমাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য তমির আলী বলেন, টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি ছেড়ে এই আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বরকল জোন অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ নিয়ে এখানকার প্রায় ৩০০ জন নারী, শিশু ও প্রবীণ মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। সংকটের মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ৪৫ বিজিবির সকল কর্মকর্তার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিজিবির মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. রকিবুল ইসলাম রনি সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আজ দিনভর সেবামূলক কার্যক্রমে প্রায় তিন শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটে দেশের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।