শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বরিশাল র্যাব-৮ ও কিশোরগঞ্জ র্যাব-১৪ যৌথ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। কিশোরগঞ্জ থেকে তাদের আটক করা হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে মাদারীপুর র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র্যাব-৮-এর কমান্ডার অধিনায়ক মুহাম্মদ শাহাদত হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৮), একই গ্রামের শামসুদ্দিন মোল্লার ছেলে রাব্বি মোল্লা (২৪) এবং ডামুড্যা উপজেলার মডেরহাট গুচ্ছগ্রামের সহিদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
র্যাব-৮ সূত্র জানায়, নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ দাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কেউরভাঙ্গা এলাকায় পল্লি চিকিৎসার পাশাপাশি ফার্মেসি এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা—বিকাশ, নগদ ও রকেট পরিচালনা করতেন।
ঘটনার দিন ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টায় প্রতিদিনের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে তাঁর কাছে প্রায় ছয় লাখ টাকা ছিল। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নেমে বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাণ বাঁচাতে খোকন দাস পাশের একটি ডোবার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শরীয়তপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা পরেশ দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় র্যাব-৮ ও র্যাব-১৪। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পৈলনপুর এলাকা থেকে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুহাম্মদ শাহাদত হোসেন জানান, অভিযানে একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়েছে এবং আসামিদের কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।
মাদারীপুর র্যাব-৮, সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার (পুলিশ সুপার) মীর মনির হোসেনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।