ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নোটিশপ্রাপ্ত দুই প্রার্থী হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত মো. হারুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল জজ সবুজ হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়।
নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জামায়াত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং তাঁর সমর্থক গোষ্ঠীর পেজ থেকে গত ৭ জানুয়ারি প্রতীকসংবলিত নির্বাচনী পোস্টার শেয়ার ও ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালানোর প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও গত ৬ জানুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকসংবলিত পোস্টার প্রকাশ ও নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছিল, যা কমিটির নজরে আসে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেন এই দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বা কেন পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) বেলা ১১টায় ফরিদগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল জজ সবুজ হোসেন তাঁর নির্দেশনায় জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বক্তব্য ছাড়াই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। নোটিশগুলো দ্রুত জারি করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।