শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

চীন-পাকিস্তানকে মোকাবেলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার লক্ষ্য ভারতের

ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের জলযান বহরের ব্যাপক বিস্তৃতি এবং পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক চীনা সাবমেরিন সংযোজনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ভারসাম্য বজায় রাখতে আগামী এক দশকের ভেতর নিজেদের নৌবহরে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-র ওপরে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় লক্ষ্য স্থির করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর।

চীন-পাকিস্তানকে মোকাবেলায় ২০০ যুদ্ধজাহাজের নৌবহর গড়ার লক্ষ্য ভারতের
ছবি : সংগৃহীত
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের জলযান বহরের ব্যাপক বিস্তৃতি এবং পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক চীনা সাবমেরিন সংযোজনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত। আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ভারসাম্য বজায় রাখতে আগামী এক দশকের ভেতর নিজেদের নৌবহরে যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-র ওপরে নিয়ে যাওয়ার একটি বড় লক্ষ্য স্থির করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্যসূত্র অনুযায়ী, বেইজিংয়ের সামরিক জলযানের অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতি এবং ইসলামাবাদ কর্তৃক উন্নতমানের আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ ক্রয়ের বিষয়টি ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় নয়াদিল্লির নিরাপত্তা চিন্তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত 'আইএনএস মহেন্দ্রগিরি' নামের স্টিলথ ফ্রিগেট এবং 'আইএনএস মালভান' নামের সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ চলতি মাসেই নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বহিরাগত দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়েও নিজস্ব উদ্যোগে বহর শক্তিশালী করতে সমর্থ ভারত।

মহেন্দ্রগিরির প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ ভাগ দেশীয় কাঁচামাল প্রয়োগ করে এটি নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বানের বাস্তবিক প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে এই অর্জনকে।

এটি মূলত নীলগিরি সিরিজের অন্তর্ভুক্ত ষষ্ঠতম জলযান। এই সিরিজের সপ্তম তথা সর্বশেষ সামরিক জাহাজ ‘বিন্ধ্যাগিরি’ অতি শীঘ্রই পরিষেবায় যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া 'প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো' সাংকেতিক নামের অধীনে থাকা পরবর্তী প্রজন্মের আরও সাত থেকে আটটি যুদ্ধজাহাজ তৈরির প্রক্রিয়া অগ্রগতির সারিতে অবস্থান করছে।

বর্তমানে দেশটির সামরিক বহরে আনুমানিক ১৫০টি জাহাজ সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে মূল সারির ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন সংখ্যা সাড়ে ১৩০টির মতো। এর বাইরে আরও প্রায় ৫০টির কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুতের বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।

দেশটির সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা গবেষক সঞ্জয় মিশ্র মনে করেন, নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর ভর করে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ জাহাজের নির্ধারিত মাইলফলক স্পর্শ করা ভারতের পক্ষে যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। উপযুক্ত সমর্থন ও অবকাঠামো নিশ্চিত হলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জলযান বহরে যুক্ত করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আলোকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রাখতে ভারতের দুটি সুসজ্জিত ও স্বাবলম্বী নৌবহরের প্রয়োজন। আর তা বাস্তবায়নে মূল জাহাজের সাথে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সহায়ক জলযানের সংযোজন আবশ্যক।

পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ভারতীয় নৌবাহিনী জাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি কয়েক গুণ বাড়িয়ে প্রতি দেড় মাসের ব্যবধানে অন্তত একটি করে নতুন নৌযান যুক্ত করছে। স্রেফ শেষ দেড় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পাঁচটি জাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে দেশটি।

তবে এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান বাধাগুলোর কথা তুলে ধরেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংবেদনশীল বিশেষায়িত ইস্পাতসহ মূল যন্ত্রাংশের আমদানি-নির্ভরতা, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার অগোছালো অবস্থা এবং তুলনামূলক পুরনো শিপইয়ার্ড প্রযুক্তি ভারত সরকারের এই মহৎ উদ্যোগের গতি কিছুটা মন্থর করতে পারে।