চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আজ দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর মধ্যে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতের সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ বা জিডিআইয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম সরকারি চীন সফর। সফরের অংশ হিসেবে আজ তিনি ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ অংশ নেবেন। সেখানে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন তিনি।
এ ছাড়া আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিআইডিসিএ) চেয়ারম্যান, চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (চায়না এক্সিম ব্যাংক) চেয়ারম্যান, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান এবং চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর। পাশাপাশি চেরি গ্রুপ, হান্ডা গ্রুপ ও চায়নাটেক্স করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
সফরের পরবর্তী দিনে, অর্থাৎ আগামীকাল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দেশে ফেরার আগে তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরও পরিদর্শন করবেন।
এদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, অতীতের অর্জনের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
তিনি লিখেছেন, ‘এই সফর আগামী দিনে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে গতি আনবে। দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্পর্ক আরও অর্থবহ ও গুণগত মানে উন্নীত করতে এই সফর ভূমিকা রাখবে।’
এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে গত ২২ জুন চীনের দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৩ জুন তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভা ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০২৬’-এ অংশ নেন। পরে ২৪ জুন সন্ধ্যায় বুলেট ট্রেনে করে তিনি বেইজিং পৌঁছান।