সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার পাচার : দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাকের কাপড় ভর্তি একটি কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার পাচার : দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে ভেতর থেকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাকের কাপড় ভর্তি একটি কনটেইনার চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।

গত বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান নামের ওই দুই বন্দর কর্মীকে আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী মিজানুর রহমান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার উলুবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব আকনের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সী আবু সুফিয়ান নোয়াখালীর সেনবাগ এলাকার শহীদ উল্ল্যাহ মাস্টার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে এবং তিনি বন্দরে কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে চীন থেকে আমদানিকৃত এই তৈরি পোশাকের কাপড়ের কনটেইনারটি বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই চুরির ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। জানা গেছে, গায়েব হওয়া ওই কনটেইনারটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড। টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪ নম্বরযুক্ত ৪০ ফুট দীর্ঘ ওই কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার আমদানি করা ফেব্রিক্স ছিল।

পুলিশের বিবরণী থেকে জানা যায়, পণ্যবাহী কনটেইনারটি চীন থেকে বন্দরে পৌঁছানোর পর বার্থ অপারেটর বশির আহাম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে নামানো হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে এনে রাখা হয়েছিল। এরপর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড প্রয়োজনীয় শুল্ক ও কর পরিশোধ করে মালামাল খালাস করতে গেলে ইয়ার্ডে কনটেইনারটির কোনো হদিস মেলেনি। চারদিকে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে থানায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, স্পর্শকাতর এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করতে গিয়ে বন্দরের ভেতরের এই দুই কর্মচারীর প্রত্যক্ষ অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা খুঁজে পায় পুলিশ। এর প্রেক্ষিতে বুধবার তাদের হেফাজত করা হয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, কনটেইনার পাচারের এই বড় চক্রটিকে চিহ্নিত করতে গ্রেপ্তারকৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই জালিয়াতির সাথে বন্দরের উচ্চপদস্থ বা অন্য কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।