দীর্ঘ পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হামের টিকাদান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে একটি 'ফৌজদারি অপরাধমূলক অবহেলা' হিসেবে গণ্য করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সাথে ড. ইউনূস এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সকল উপদেষ্টাসহ মোট ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জি জানানো হয়েছে এই আবেদনে।
আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।
দায়েরকৃত এই আইনি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় থাকা হামের টিকাদান কর্মসূচিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর জরুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের দেশত্যাগে আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল, অন্যথায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেই নোটিশের কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব না পাওয়ায় এই রিট আবেদনটি করা হয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, সরকারি টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করার ফলে দেশে নতুন করে হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই রোগের সংক্রমণে ইতিমধ্যে শতাধিক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও অসংখ্য শিশু ও সাধারণ নাগরিক আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবেদনকারী আইনজীবী আরও দাবি করেন, জাতীয় পর্যায়ের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কর্মসূচিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক স্বার্থে ছেড়ে দেওয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি অশুভ চক্র জড়িত। এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত নিশ্চিত করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ বিগত উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।